কেঁচো খুঁড়তে সাপ : ডাক থেকে হাপিস গ্রাহক সঞ্চয়ের ৫৫ কোটি টাকা!
এ যেনো কোঁচো খুঁড়তে সাপ। আর এই সাপ ধরার কথা জানিয়েছেন খোদ ডাক, টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। রাজশাহীর তানোর পোস্ট অফিসে নিজের জমাকৃত ২ লাখ টাকার হদিস না পেয়ে আত্মহত্মার প্রচেষ্টা চালিয়ে আলোচিত পারুল বেগম বেগমের কান্না মুছতে নেয়া তদন্তের সূত্র ধরে পোস্ট অফিসের গ্রাহকের সঞ্চয়পত্রের হিসাব খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে দেশজুড়ে বিভিন্ন পোস্ট অফিস থেকে আত্মসাৎ করা হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা!
প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, তদন্ত অনুযায়ী, পারুল বেগম সহ ৫১ জনের কাছ থেকে ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে অভিযুক্ত মোকসেদ আলম। এছাড়াও চট্টগ্রাম জিপিওতে ২৯ কোটি টাকা, নোয়াখালী পোস্ট অফিসে সাড়ে ৯ কোটি টাকা, বরিশাল মেডিকেল কলেজ পোস্ট অফিস ও পটুয়ালী পোস্ট অফিসে ২ কোটি করে ৪ কোটি টাকা, যশোরে ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, শ্যামপুর পোস্ট অফিসে ৭৩ লাখ টাকা, দিনাজপুর পোস্ট অফিস থেকে গ্রাহককে সাদা কাগজে সই করিয়ে সঞ্চয় পত্রের ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে রবিবার তানোর পোস্ট অফিসে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ এর ঘটনায় করণীয় সংক্রান্ত ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, তানোর ডিজিটাল পোস্ট অফিস পোস্টমাস্টার মকছেদ আলীকে পুলিশে সোপর্দ ও দুদকে অভিযোগ দায়েরসহ তার খোয়া যাওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ডাক মহাপরিচালক তরুন কান্তি সিকদারকে দুই ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুদকে নালিশ দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী পলক। একইসঙ্গে গ্রাহক সচেতনতায় ৯ হাজার ৩০০ পোস্ট অফিস এলাকাতেই এ বিষয়ে মাইকিং করা এবং গ্রাহক সচেতনতায় ৯ হাজার ৩০০ পোস্ট অফিস এলাকাতেই এ বিষয়ে মাইকিং করে এবং ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে গ্রাহককে জাতীয় হটলাইন ৩৩৩ নম্বরে অভিযোগ জানাতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও পোস্টের সব সমস্যার স্থায়ী সমাধনে এটুআই ও বিসিসি’র সঙ্গে কথা বলে কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার তৈরির পরামর্শ দিয়ে মহাপরিচালককে পলক বলেছেন, পোস্টাল রিসোর্স প্লানিং (পিআরপি) সফটওয়্যারের মাধ্যমে পুরো কার্যক্রমে কাগজ-কলম ছাড়া ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসতে হবে যেনো অস্বচ্ছ কোনো প্রক্রিয়া না হয়। এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই পিআরপি সফটওয়্যারের প্রস্তাবানা চেয়ে আগামী সপ্তাহে জমা দেবেন। এজন্য যদি ১০ কোটি টাকা খরচও হয় তার মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতি ঠেকানো সম্ভব হবে।
পলক বলেছেন, ডাকে ৪০ হাজার কর্মীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০ জন অসৎ হতে পারে। তাদের জন্য পুরো বিভাগ দুর্নামের ভাগি যেন না হয় সেজন্য সকলকে সচেতন থাকতে হবে। এখনই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া হলে ডাক বিভাগের গ্রহণযোগ্যতা কমে যাবে। সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে তানোর উপজেলা পোস্ট অফিসের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়ায় ডাক অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, ‘পারুল বেগম তানোর উপজেলা ডাকঘরে দুই লক্ষ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেছিলেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুণরায় মুনাফা লাভের আশায় উপজেলা পোস্টমাস্টার মোহাম্মদ মোকসেদ আলীর কাছে দুই লক্ষ টাকা জমা রেখেছিলেন এবং মাসে মাসে যথারীতি আগের মতই মুনাফা গ্রহণ করতেন। কিন্তু দ্বিতীয়বারে ২ লক্ষ টাকা জমা রাখার সময় তিনি অফিসিয়ালি কোন সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেননি অথবা পোস্ট অফিসে এফ ডি, এসবিতে টাকা জমা রাখেননি। পারস্পরিক বিশ্বাসে আর্থিক লেনদেন করেছেন মাত্র। যেহেতু পারস্পরিক বিশ্বাসে টাকা জমা রেখেছেন সে ক্ষেত্রে এর দায় ডাক বিভাগের ওপর বর্তায় না। তা সত্ত্বেও প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট পোস্ট মাস্টার এর নিকট থেকে ব্যক্তিগত লেনদেনের টাকা আদায়ে পারুল বেগমকে সহযোগিতাসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা পোস্ট মাস্টারের বিরুদ্ধে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন করার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত এ বিষয়ক পর্যালোচনায় প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের তানোর ছাড়াও বাংলাদেশের সর্বত্র এমন অসঙ্গতিগুলো খুঁজে বের করে প্রতিহত করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দিকনির্দেশনা দেন । একইসাথে সরকারি রশিদ ব্যতীত যেন কেউ কোন টাকা লেনদেন না করেন, সেই বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।







